
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী সুমন এ মামলার একমাত্র আসামি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত ছিলেন এবং ঘটনার দিনও নেশাগ্রস্ত ছিলেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজমিনকে হত্যার দায় স্বীকার করেন সুমন।
মাদকাসক্তি ও পারিবারিক বিরোধে ভেঙেছে সংসার
সুমনের ভায়রা যুবায়েরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুমনের ১৬ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মাদক সেবন ও নির্যাতনের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী জেসমিন সন্তানদের নিয়ে আলাদা বসবাস করছেন। সুমন থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। বর্তমানে তাঁর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সুমন। দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে লালমাই থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।
সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর আগে বিয়ের পর ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সুমন।
যেভাবে নিখোঁজ থেকে খুন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরছিল জান্নাতুল তাজমিন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে একটি বাস থেকে নামার পর নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।
পুলিশের ভাষ্য, অটোরিকশাচালক সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পাশের একটি মসজিদের পুকুরে গোসল করে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান সুমন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, দায় স্বীকার করে জবানবন্দি
মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল চট্টগ্রামের অলংকার এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় সুমনকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। শনিবার রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।