.webp)
কুমিল্লা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ নেওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক ফাহিম মুনতাহিম। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা এবং সংবাদমাধ্যমের লোগোযুক্ত মাইক্রোফোনের বুম কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে ফাহিম (২৩) কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি একটি জাতীয় দৈনিকের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে মাল্টিমিডিয়া বিভাগে কাজ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কয়েকজন সাংবাদিক ওই সেটেলমেন্ট অফিসে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনলাইন বিভাগের প্রতিনিধি আবু সুফিয়ান ও ফাহিম মুনতাহিম।
ফাহিমের অভিযোগ, অফিসটির ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার মেহরাব হোসেন (৪৮) দালাল হিসেবে পরিচিত রহিম (৫৫) ও শাহ আলমের (৬০) মাধ্যমে সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি নিজের মুঠোফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করেন।
ফোন ভাঙচুর ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণের বিষয়টি বুঝতে পেরে মেহরাবের নেতৃত্বে রহিম, শাহ আলম এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজন ফাহিমের ওপর চড়াও হন। তাঁরা তাঁর কাজে বাধা দেন এবং হাতাহাতির একপর্যায়ে মুঠোফোন ও সংবাদমাধ্যমের লোগোযুক্ত বুম ছিনিয়ে নেন।
ফোনটি কেড়ে নেওয়ার সময় রহিম তাঁর ডান হাতে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেছেন ফাহিম। পরে ফোনটি মাটিতে আছড়ে ভেঙে ফেলা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাঁদের হুমকি দেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে কোতোয়ালী মডেল থানার টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পেয়ে কুমিল্লার অন্য সাংবাদিকেরাও সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ জানান।
অভিযোগ অস্বীকার ও পুলিশের তদন্তের আশ্বাস
অভিযোগের বিষয়ে মেহরাব হোসেন হামলা ও ভাঙচুরে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এসব ঘটনার সঙ্গে তাঁরা সম্পৃক্ত নন।
ফাহিম মুনতাহিম বলেন, মেহরাব হোসেনের ঘুষ নেওয়ার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে সহকর্মী ও নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।