
দেশের ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পানি আইন অনুসরণ করে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রাজশাহীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে প্রত্যাশা
প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসন্ন বৈঠক ও সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা দেশটির রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে। সেই বার্তা নিয়ে রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন। রাষ্ট্রদূত দেশে ফিরে কী জানান, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি অভিন্ন নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ভারত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি
আগামী ১২ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি নবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
তিনি আশা করেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সম্পাদিত চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজের ভিত্তিতে ভারত নতুন করে চুক্তিটি নবায়ন করবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পুনরুজ্জীবন এবং দূষণ ও দখলমুক্ত করার প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেন।
পরে তিনি গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল ঘুরে দেখেন। এ সময় রাজশাহী শহরের আই-বাঁধ, টি-বাঁধ ও শহর রক্ষা বাঁধের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।