
সিলেটে জালালাবাদ গ্যাসের মূল পেমেন্ট সার্ভারে কারসাজি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটির যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শাখার সার্ভারের পেমেন্ট ব্যবস্থায় এ জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হলরুম ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থের হিসাবেও অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে দুদক। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংস্থাটির সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট দল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে আকস্মিক অভিযান চালায়।
বিল পরিশোধের তথ্য বদল, আত্মসাতের অভিযোগ
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মিটারের বিপরীতে গ্রাহকের পরিশোধ করা গ্যাস বিল সার্ভারে কৌশলে ‘অপরিশোধিত’ হিসেবে দেখানো হতো। এ পদ্ধতিতে নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হলরুম ও ভেন্যু ভাড়া বাবদ আয় এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য সরকারি বরাদ্দে কেনা গ্যাস সিলিন্ডারের অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও মিটারের নম্বরসংক্রান্ত যাবতীয় দাপ্তরিক নথি চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশনের দল। পাশাপাশি ভেন্যু ভাড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এসিআই লিমিটেডের কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক নথিপত্র চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নথি যাচাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ
দুদকের অনুসন্ধানকারী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাওয়া নথি ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র পাওয়ার পর সেগুলো বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। এরপর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
দুদক সিলেটের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমদ বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও সার্ভারে কারসাজির ঘটনায় প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।