
রূপালী ব্যাংক পিএলসি চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৩৯৬ কোটি টাকা নিট লোকসানের মুখে পড়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি ২১ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল।
ব্যাংকটির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। গত রোববার (১৬ মে) পরিচালনা পর্ষদের সভায় আর্থিক প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকটির সুদ আয় হয়েছে ৬৫৮ কোটি টাকা। বিপরীতে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ৮৫৯ কোটি টাকা সুদ আয়ের বিপরীতে ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করেছিল ব্যাংকটি।
সুদ আয় কমে যাওয়া এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকটির আর্থিক চাপে লোকসান বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটির পরিচালন লোকসান হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। অথচ আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ৩০৬ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা হয়েছিল।
এদিকে আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ১২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১৩ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৫ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি রূপালী ব্যাংক। ওই সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১৪ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ২৩ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৫ টাকা ২ পয়সা।
১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৪৮৭ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির রিজার্ভে রয়েছে ৫৩৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ সরকারের হাতে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার।