
দেশের অন্যতম শীর্ষ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’ তাদের কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী তারল্য সহায়তার ফলে ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে এবং গ্রাহকদের লেনদেনও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
শনিবার (২০ জুন) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী ব্যাংক স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি, বিশৃঙ্খলা তৈরি কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও এতে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে তীব্র তারল্য সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানামুখী গুজবের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক গ্রাহক একসঙ্গে আমানত উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে ভিড় করেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সহায়তা এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতির এখন উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, "ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংকের প্রতি আস্থা আবার বাড়তে শুরু করেছে। নতুন আমানত জমার পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি আমানত উত্তোলনের চাপও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।"
তিনি সতর্কবার্তার বিষয়ে আরও যোগ করেন, "ব্যাংকের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অযথা বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা বা কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মূলত সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থায় ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্ব ও পরিধি অত্যন্ত বিশাল। বিপুল সংখ্যক গ্রাহক, দেশের বৃহত্তম আমানতভিত্তি এবং বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কের কারণে এই ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্যই অত্যন্ত জরুরি। ফলে ব্যাংকটিতে স্বাভাবিকতা ফিরে আসা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাওয়া দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় ইতিবাচক বার্তা।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি, তারল্য সহায়তা এবং বর্তমান ব্যাংক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ইসলামী ব্যাংক খুব দ্রুতই তার গৌরবময় অবস্থানে ফিরে আসতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে তারা গ্রাহকদের যেকোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন।