
দেশের ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে আমদানি কার্যক্রম আরও সহজ, নমনীয় ও কার্যকর করতে নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে আমদানিকারকদের পণ্য সংরক্ষণে বাড়তি সুবিধা মিলবে, একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ঋণঝুঁকিও কমবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতিমালার ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প ও স্থানীয় উৎপাদন খাত আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইনের দক্ষতাও বাড়বে।
এই সুবিধা পাবেন উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী আমদানিকারক এবং এফটিজেডে লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
নতুন ফ্রেমওয়ার্কে কনসাইনমেন্ট ভিত্তিক আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বিদেশ থেকে আনা পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার বা বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত সেগুলোর মালিকানা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছেই থাকবে। ফলে মালিকানা হস্তান্তরের আগে ব্যাংকগুলো এসব পণ্যকে ইনভেন্টরি হিসেবে গণ্য করবে না এবং এ কারণে কোনো ঋণঝুঁকিও বহন করতে হবে না।
এফটিজেড-সংক্রান্ত লেনদেনের ধরনও নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরের কোনো ক্রেতা এফটিজেড থেকে পণ্য কিনলে তা আমদানি হিসেবে বিবেচিত হবে। আবার এফটিজেডে থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রেতার জন্য সেটি রপ্তানি এবং ক্রেতার জন্য আমদানি হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের লেনদেনে নির্ধারিত এক্সপি ও আইএমপি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, এফটিজেড-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের আর্থিক লেনদেন অবাধে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানি করা পণ্য এফটিজেডে সর্বোচ্চ ৪৮ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে।
এ ছাড়া বিলম্বিত মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থায় আমদানির ক্ষেত্রে, যার মধ্যে বায়ার্স ক্রেডিট ও সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট অন্তর্ভুক্ত, পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা ২৭০ দিন নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।