সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর একদিনে এটিই সবচেয়ে বড় সূচক পতন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) ঢাকা ও চট্টগ্রাম-উভয় শেয়ারবাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ৩১০টির দাম কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৫৯টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ২০টির দর।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে নেমেছে। পাশাপাশি ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ২৩ পয়েন্ট, যা লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে।
লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য ভাটা দেখা গেছে। ডিএসইতে এদিন মোট ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৫৮ পয়েন্ট কমেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮৬টির দর কমেছে, বেড়েছে ৫৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টির। এদিন সিএসইতে ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
এদিকে বাজারের এ দরপতনকে স্বাভাবিক মূল্য সমন্বয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই সাম্প্রতিক এ পতনকে সংকট হিসেবে না দেখে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন-দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান দরপতন বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ বলেই তিনি মনে করেন।