
মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রাখার অন্যতম নিরাপদ জায়গা হিসেবে পরিচিত ব্যাংক। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর সেখানে সঞ্চয় করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, কর্মকর্তাদের অর্থ নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া এবং ভল্ট ও লকার থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার একের পর এক অভিযোগে সেই আস্থায় চিড় ধরেছে। ফলে ব্যাংকে টাকা রেখেও নিজেদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেক আমানতকারী।
গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের একাধিক শাখায় বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংকিং খাতের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংকের নীলফামারীর সৈয়দপুর শাখায় প্রায় ৬৬ কোটি টাকা, পাবনার কাশিনাথপুর শাখায় ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা, চাঁদপুরের ছেংগারচর বাজার শাখায় ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রামের লালদিঘী পূর্ব করপোরেট শাখায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় ১৪টি হিসাব থেকে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকটির রমনা করপোরেট শাখার একটি লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অগ্রণী ব্যাংকের আরও কয়েকটি শাখায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
একের পর এক ব্যাংকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শুধু অগ্রণী ব্যাংকেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল পূবালী ব্যাংকের চাঁদপুর নতুন বাজার শাখার ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দীর বিরুদ্ধে দুই গ্রাহকের ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত মুনাফা দেওয়ার কথা বলে ওই অর্থ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা।
একই বছরের ২৭ জানুয়ারি ফরিদপুরের ঝাটুরদিয়া বাজারে মিডল্যান্ড ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ব্যবস্থাপক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে শত শত গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা।
২০২৪ সালের ৬ জুলাই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কর্মসংস্থান ব্যাংকের এক নিরাপত্তাপ্রহরীর বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩০ টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
পরের বছর, ২০২৫ সালের ৭ মে ফেনীর দাগনভূঞার সিলোনিয়া বাজার শাখায় সাউথইস্ট ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। গ্রাহকদের দাবি, এফডিআর ও বিভিন্ন হিসাব থেকে ওই টাকা তুলে নেওয়া হয়। অডিট দল শাখায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পালিয়ে যান বলে জানা যায়।
একই বছরের ৫ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী শাখার ব্যবস্থাপক খালেদ সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ঈশ্বরদী করপোরেট শাখা থেকে এক কোটি টাকা এবং দাশুড়িয়া শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।
চলতি বছরেও থামেনি অভিযোগ
২০২৬ সালেও ব্যাংক ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৯ জুন পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেটের ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। টাকা ফেরতের দাবিতে ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা।
গত ২২ আগস্ট কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। টাকা ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
এ ছাড়া একই বছরের ৩ অক্টোবর বাগেরহাটের শরণখোলার তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে।
বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় শাখায় কী ঘটেছে?
অগ্রণী ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখায় প্রায় ৬৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শাখাটির সিনিয়র অফিসার আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে ভুয়া লেনদেন তৈরি এবং বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, কাশিনাথপুর শাখার ভল্ট থেকে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অডিটে বিষয়টি ধরা পড়ার পর শাখাটির তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছেংগারচর বাজার শাখায় ক্যাশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভল্ট থেকে ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রামের লালদিঘী পূর্ব করপোরেট শাখায় ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ছাড়া রমনা করপোরেট শাখার একটি লকার থেকে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
অভিযোগকারী কানাডাপ্রবাসী ফারজানা রহমান লিমার দাবি, জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে তাঁর লকার খোলা হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন তিনি।
একই ব্যাংকের একাধিক শাখায় বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিয়মিত অডিট, ভল্ট যাচাই, হিসাব সমন্বয় ও শাখা পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব অনিয়ম আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি কেন, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
নজরদারি ও অডিট নিয়ে প্রশ্ন
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব, দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, অডিট ও শাখা পরিদর্শনে ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের তদারকির দুর্বলতা এ ধরনের ঘটনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন, ভল্টের অর্থ, গ্রাহকের হিসাব ও লকার পরিচালনায় একাধিক স্তরের যাচাই এবং জবাবদিহি থাকার কথা। এসব প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা থাকলে তা কাজে লাগিয়ে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিয়মিত অডিট ও শাখা পরিদর্শনের উদ্দেশ্য হলো অনিয়ম শনাক্ত করা, আর্থিক ঝুঁকি কমানো এবং গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অথচ বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর অনেক ক্ষেত্রে অডিট বা তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো সামনে আসছে। এতে বিদ্যমান নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ আমানতকারীরা
ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন সাধারণ গ্রাহকেরা। বছরের পর বছর সঞ্চয় করে ব্যাংকে রাখা অর্থ হারালে অনেকের পক্ষেই সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হয় না।
বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য ও মধ্যবিত্ত আমানতকারীদের জন্য ব্যাংকে জমা রাখা অর্থ অনেক সময় জীবনের শেষ অবলম্বন। সেই অর্থ ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।
এ ধরনের ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; দীর্ঘমেয়াদে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও দুর্বল করতে পারে। ব্যাংকে টাকা রেখেও যদি গ্রাহকদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তাহলে সেই আস্থার সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যা বলছেন ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা
সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. শওকত আলী খান ঢাকাওয়াচকে বলেন, “ব্যাংকের গ্রাহকের আমানতের টাকা নিয়ে যারা পালিয়ে যায়, তারা শুধু আর্থিক অপরাধই করছে না, তারা চরম নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় দিচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতোমধ্যে এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে শুধু মামলা বা গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়; অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিচার দ্রুত হলে এবং শাস্তি নিশ্চিত হলে এ ধরনের অপরাধ করার সাহস কেউ পাবে না। একই সঙ্গে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগই না থাকে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ঢাকাওয়াচকে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে চাই। প্রাপ্ত তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ রাখে না। অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কারণ গ্রাহকের আস্থাই ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। সেই আস্থা অটুট রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সব ধরনের তদারকি ও ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে।”
আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অভিযোগের পর মামলা বা গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিয়মিত ও কার্যকর অডিট, ঝুঁকিভিত্তিক শাখা পরিদর্শন এবং ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কঠোর জবাবদিহি।
একই সঙ্গে তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকের ভল্ট, লকার ও গ্রাহকের হিসাব পরিচালনার নিরাপত্তাব্যবস্থাও নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু অর্থ নয়, গ্রাহকের আস্থাও। সেই আস্থায় ফাটল ধরলে ক্ষতি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায়। তাই আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায় নির্ধারণ ও অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে গ্রাহকদের স্পষ্ট তথ্য দেওয়া জরুরি।