
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা সরাসরি এবং নিরাপদে প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে দিতে এক কঠোর ও জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতাধীন সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির (এইচএসপি) ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি এবং সমমানের উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যালিডেশন বা যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের স্কিম পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আসাদুল হক স্বাক্ষরিত একটি সরকারি পত্রে দেশের সকল উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এই বিষয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঐ প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এখনও অভিভাবকের এনআইডি দ্বারা যাচাই করা হয়নি, তাদের তথ্য সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সফটওয়্যারের ‘মোবাইল ব্যাংক তথ্য আপডেট’ অপশনটি আগামী ১৭ জুন থেকে ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি অভিভাবকের এনআইডির মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ভ্যালিডেশন সম্পন্ন করা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হবে। ফলশ্রুতিতে, উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্তিতে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা তৈরি না হয়, সেজন্য দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তাদের সুবিধার্থে নির্দেশনায় ভ্যালিডেশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমে ব্যবহারকারীকে এইচএসপি-এমআইএস-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে লগ ইন করতে হবে। এরপর মূল ড্যাশবোর্ডে থাকা ‘বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী’ অপশনে ক্লিক করে সরাসরি ‘মোবাইল ব্যাংক তথ্য আপডেট’ মেনুতে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে থাকা ‘খুঁজুন’ বাটনে ক্লিক করলেই বর্তমানে সক্রিয় থাকা সকল উপকারভোগী শিক্ষার্থীর তথ্য স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।
পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নামের পাশে থাকা ‘সম্পাদনা’ অপশনে ক্লিক করে নির্দিষ্ট মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) চ্যানেলটি নির্বাচন করতে হবে। সেবা প্রদানকারী অপারেটর হিসেবে রকেট, বিকাশ, নগদ, উপায় অথবা এমক্যাশের মধ্যে যেটি সচল রয়েছে, তা বেছে নিয়ে হিসাবধারীর নাম ও সঠিক মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরটি নিখুঁতভাবে এন্ট্রি দিতে হবে। সর্বশেষে ‘হালনাগাদ’ অপশনে ক্লিক করলেই পুরো তথ্যটি সিস্টেমে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এইচএসপি-এমআইএস সফটওয়্যারে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরটি আগে থেকে সংরক্ষিত রয়েছে, ঠিক সেই এনআইডি দিয়েই সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের সিমটি নিবন্ধিত হতে হবে। একই সাথে ঐ একই এনআইডি ব্যবহার করেই মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টটি (এমএফএস) খোলা থাকতে হবে। এই তথ্যের অমিল থাকলে কোনোভাবেই ডিজিটাল ভ্যালিডেশন সফল হবে না।
সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় উপবৃত্তির অর্থ যেন কোনোভাবেই অপচয় বা ভুল হাতে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। মূলত জালিয়াতি প্রতিরোধ, প্রকৃত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর কাছে অর্থ পৌঁছানো এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা সরাসরি অভিভাবকের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, দেশের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না করতে এবং ঝরে পড়া রোধে দীর্ঘদিন ধরে উপবৃত্তি সহায়তা দিয়ে আসছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন এই ডিজিটাল ভ্যালিডেশন কার্যক্রম সরকারের সামগ্রিক উপবৃত্তি ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করে তুলবে।