
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, একসময় সরকারি কর্মকর্তারা খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা কচুরিপানা পরিষ্কারের মতো বিষয়েও বিদেশ সফরে যেতেন। সেই সময় এখন আর নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে স্পোর্টস কালচার, পারিবারিক মূল্যবোধ, বিতর্কচর্চা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারের নলাম এলাকায় গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চান, যারা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হবে।
তিনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে পারিবারিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং কালানুক্রমিকভাবে প্রকৃত ও নিরপেক্ষ ইতিহাস সংযোজন করা হচ্ছে।
ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, চলতি বছরের পাঠ্যপুস্তকে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমার্জন আনা হয়েছে। তবে পুরো কারিকুলাম রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় ও পরিকল্পিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাড়ানো হচ্ছে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে সেগুলো পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।