
ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এমনকি মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন প্রতিহত করতে পারবে না—মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে আইনপ্রণেতাদের এমন তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের বলেছেন যে ইরানের শাহেদ ড্রোন বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব ড্রোন আটকাতে সক্ষম নাও হতে পারে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানায়, সেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। তারা স্বীকার করেন, এই ড্রোনগুলো প্রত্যাশার তুলনায় বেশি জটিল সমস্যা তৈরি করছে।
সূত্রগুলোর মতে, শাহেদ ড্রোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো নিচু উচ্চতায় এবং ধীর গতিতে উড়তে পারে। এই কারণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সক্ষম।
ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানায়, কর্মকর্তারা ড্রোন হুমকি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দেখানোরও চেষ্টা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যে প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অধিকাংশ সামরিক স্থাপনা ইতোমধ্যে ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক হামলাগুলো সরাসরি ইরানি নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, কর্মকর্তারা ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকে একটি আনুষঙ্গিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটিকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে’ অস্ত্র সরবরাহ করা থেকে বিরত রাখা।
অন্যদিকে আরেকটি সূত্রের মতে, কর্মকর্তারা ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই অভিযানে সম্ভাব্য কয়েকজন উত্তরসূরিও নিহত হয়েছেন। বর্তমানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জটিল প্রক্রিয়া চলছে।
এই সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। আলাবামা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল বলেন, ব্রিফকারীদের মধ্যে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সম্ভাব্য সময়সীমা তুলে ধরেছেন। তবে আরেকজন আইনপ্রণেতা জানান, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তথ্যসূত্র: সিএনএন।