
ইস্টার উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও ইউক্রেনের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি মস্কো। বরং এটিকে অস্পষ্ট ও অপ্রতুল বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া, ফলে আসন্ন উৎসবেও যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ক্রেমলিন জানায়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া এই প্রস্তাব স্থায়ী শান্তির জন্য কার্যকর নয় এবং এতে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনার উল্লেখ নেই। এর আগে সোমবার জেলেনস্কি অর্থোডক্স ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের ইস্টার উপলক্ষে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এই উদ্যোগকে ‘আপস’ হিসেবে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেছিলেন, যারা জীবনকে সম্মান করে, এমন সব ‘স্বাভাবিক মানুষ’ একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে। তবে রাশিয়ার মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত কোনো কাঠামো উপস্থাপন করে না।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করা ইউক্রেনের জন্যই বেশি জরুরি। তার দাবি, রুশ বাহিনী বিভিন্ন ফ্রন্টে অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে—কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরগতিতে। তিনি আরও বলেন, জেলেনস্কিকে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ সময় যত গড়াবে, সেই সিদ্ধান্তের মূল্য তত বাড়বে।
পেসকভ জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উচিত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা কেবল অস্থায়ী বিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে তারা বর্তমান সামরিক সুবিধা ধরে রেখে ইউক্রেনের ওপর চাপ বজায় রাখতে চায়।
উল্লেখ্য, গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একতরফাভাবে ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই সময় উভয় পক্ষই একে অপরকে তা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তখন জেলেনস্কি ৩০ ঘণ্টার ওই বিরতিকে ৩০ দিনে বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও পুতিন তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এবার জেলেনস্কি আরও একটি প্রস্তাব দেন—ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে উভয় পক্ষ যেন একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকে। যদিও এই বিষয়ে পেসকভ সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তিনি বলেন, রাশিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে। মঙ্গলবার বাল্টিক সাগরের উস্ত-লুগা বন্দরে এক সপ্তাহের মধ্যে চতুর্থবার হামলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে মার্চের শেষভাগ থেকে উস্ত-লুগা ও নিকটবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দরে ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে কিয়েভ, যাতে বৈশ্বিক তেলের উচ্চমূল্য থেকে মস্কো অতিরিক্ত লাভ করতে না পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই কৌশল এবং রাশিয়ার পাল্টা অবস্থান, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ অবস্থায় রাশিয়ার এই প্রত্যাখ্যানের পর ইস্টার উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে গেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে সংঘাতের পরবর্তী গতিপথের দিকে।