
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি গতকাল এক ভয়াবহ বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এবং একই ঘটনায় তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। রাজধানী তেহরানের তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার টানা পঞ্চম সপ্তাহের অংশ।
দেশের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের এই হামলায় খারাজিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেন তাকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার স্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এটি একটি হত্যাচেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবারও ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসফাহান ও শিরাজসহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলের লারেস্তানে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
একই সময়ে শতাব্দী প্রাচীন চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাস্তুর ইনস্টিটিউটের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এটি ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত’, কারণ প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে।
পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফঘারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘স্থায়ী অনুশোচনা’ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তার ভাষায়, শত্রুপক্ষের ধারণা ভুল প্রমাণ করে আরও ‘বিধ্বংসী ও বিস্তৃত’ হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাঈল বাঘাই বলেন, ‘যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি-এই চক্র আর মেনে নেওয়া হবে না’, এবং এটিকে ইরানি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘অন্যায্য যুদ্ধ’ উল্লেখ করেছেন।
চলমান এই সংঘাতে ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরানে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাল্টা হামলায় ইসরায়েলেও প্রাণহানি ঘটেছে, পাশাপাশি অঞ্চলে মার্কিন সেনাদেরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ, তেল আবিবের কাছে ব্নেই ব্রাক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কয়েকজন আহত হওয়ার পর আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।