
রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বছরেও কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে এই সংঘর্ষে। এবার ক্যাথলিক ইস্টারের আগে ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, এ হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চালানো এই হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
বার্তাসংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওইদিনের হামলায় রুশ বাহিনী ৫০০-এর বেশি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মস্কো এখন দিনের বেলাতেও হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইস্টারের আগে হামলা জোরদার করার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে বলেন, ‘আকাশে নীরবতা থাকা উচিত ছিল, কিন্তু রাশিয়া ইস্টারের আগেই হামলা করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, হামলায় আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে, একটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
রাজধানী কিয়েভে হামলার বিষয়ে আঞ্চলিক গভর্নর মিকোলা কালাশনিক জানান, সেখানে একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত রাশিয়ার এই হামলায় প্রাণীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি পশু চিকিৎসালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ২০টি প্রাণী মারা গেছে।
এএফপি’র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সাইরেন বাজতে থাকলেও অনেক বাসিন্দা মেট্রো স্টেশন বা বেসমেন্টে আশ্রয় নেন, আবার কেউ কেউ ক্যাফেতে অবস্থান করেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো জানান, কিয়েভ অঞ্চলের ওবুখিভে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা হয়েছে এবং ভিশনেভে একটি কিন্ডারগার্টেন ও স্কুলের মাঝামাঝি এলাকায় আরেকটি হামলায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া উত্তরাঞ্চলের সুমি অঞ্চলে তিনজন নিহত হয়েছেন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝিতোমির ও মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে হামলায় আরও দুজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, খারকিভ, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রাশিয়ার হামলায় মোট আটজন নিহত হয়েছেন।