
রাতভর টানা উৎকণ্ঠা আর আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ উন্মুক্ত করে, তাহলেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
এই ঘোষণার পরই ইরানের রাজধানী তেহরানে দেখা গেছে আনন্দের পরিবেশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সরাসরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধবিরতি উদযাপন করেন।
চিত্রগুলোতে দেখা যায়, হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি নিয়ে জনতা স্লোগান দিচ্ছেন এবং উল্লাস করছেন।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্মত হয়েছে এবং এর ফলে যুদ্ধবিরতি দ্রুত কার্যকর হবে।
শাহবাজ শরিফ বলেন, “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান আগামী ১০ এপ্রিল শুক্রবার ইসলামাবাদে একটি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। এতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির এই খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।