ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা সফল না হলে প্রয়োজনে কঠোর বা “অবন্ধুসুলভ” উপায়ে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে একে “অগ্রহণযোগ্য” ও “কাল্পনিক” বলে আখ্যা দিয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান “সবকিছুতেই রাজি” হয়েছে। এর মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, “এটির জন্য কোনো সেনা লাগবে না। আমরা তাদের সঙ্গে গিয়ে এটি নিয়ে আসব। তখন আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়ে যাবে।”
পরে অ্যারিজোনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” নিয়ে নেবে। যদিও পরমাণু বিজ্ঞানে এ ধরনের কোনো স্বীকৃত পরিভাষা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সম্ভবত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকেই বোঝাতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ট্রাম্পের বক্তব্যকে “কাল্পনিক তথ্য” বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর বিষয়ে ইরান কোনো সম্মতি দেয়নি। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার দাবিও মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের বাইরে গিয়ে কোনো বৈষম্যমূলক শর্ত তারা মেনে নেবে না। বর্তমানে দুই পক্ষের আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণই অন্যতম বড় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থান চলমান শান্তি আলোচনার পরিবেশকে আবারও জটিল করে তুলতে পারে।