
দক্ষিণ লেবাননে যিশুর একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনাকে ৩০ দিনের সামরিক কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, ঘটনার পর তদন্তে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে এবং সেনাবাহিনীর আচরণবিধির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য এ শাস্তি দেওয়া হয়।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও ছয়জন সেনা এ ঘটনা প্রতিরোধ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়নি। এ কারণে তাদের ব্যাখ্যা দিতে ডাকা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, দক্ষিণ লেবাননের দেবেল শহরে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর একটি মূর্তিতে একজন সেনা আঘাত করছে। ছবিতে মূর্তির মাথা আলাদা করে সেটিতেও আঘাত করার দৃশ্য ধরা পড়ে, যা দ্রুতই সমালোচনার জন্ম দেয়।
দেবেল পৌরসভার উপপ্রধান মারুন নাসিফ ঘটনাটিকে ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে তদন্ত শুরু করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং জানায়, এ ধরনের আচরণ তাদের প্রত্যাশিত মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিরোধী।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি এই ঘটনায় স্তম্ভিত ও দুঃখিত এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি ইতিমধ্যে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন করে ধাতব মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।