
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে একটি ‘রেড লাইন’ তালিকা পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছে ইরান, যা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রকে জানাতে ইসলামাবাদকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এই গোপন তালিকাটি হস্তান্তর করেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় পারমাণবিক কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-সহ সংবেদনশীল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে তারা পরিষ্কার করে জানিয়েছে, এই বার্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চলমান বা সম্ভাব্য সরাসরি আলোচনার সম্পর্ক নেই। বরং এটি বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের অনড় অবস্থান তুলে ধরার একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
তেহরানের ধারণা, পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের মাধ্যমে এই বার্তা ওয়াশিংটনে পৌঁছালে তা উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকাশিত তথ্যমতে, ‘রেড লাইন’ তালিকায় পারমাণবিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব ক্ষেত্রে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ বা সরাসরি আঘাত তারা মেনে নেবে না।
তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এই সীমারেখা অতিক্রম করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। যদিও তালিকার অন্যান্য দিক নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে এই বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার ভবিষ্যৎ গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, পাকিস্তানকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া ইরানের একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কারণ দেশটি যেমন ইরানের প্রতিবেশী, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এই অবস্থান কাজে লাগিয়ে তেহরান সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে পরোক্ষভাবে বার্তা পৌঁছে দিতে চাচ্ছে।
তবে ওয়াশিংটন এই বার্তাকে কতটা গুরুত্ব দেবে এবং এর জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বার্তার প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটির দিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: সিএনএন