
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যখন পাল্টাপাল্টি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন, ঠিক তখনই তেল আবিবের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন নাসর’ নামের এক নতুন ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই অভিযানের প্রাথমিক ধাক্কায় ইসরাইলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দুটি বিমানঘাঁটি—নেভাতিম ও তেল নাফ-এ জোরালো হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স বা মহাকাশ বাহিনী এই বিশেষ সামরিক তত্পরতা শুরু করে। বাহিনীটির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, বিগত ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘ইয়া হায়দার কাররার’ সাংকেতিক নামে এই আক্রমণটি পরিচালনা করা হয়েছে।
বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে আইআরজিসির হুঙ্কার
ইরানের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত নিজস্ব রাডার স্টেশনগুলোতে ইসরাইলি মিসাইল হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়:
"সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর সাহসী যোদ্ধারা কয়েক মিনিট আগে ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করেছে এবং নেভাতিম ও তেল নাফের মতো কৌশলগত বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।"
একই সঙ্গে আইআরজিসি দাবি করেছে, যেকোনো ইসরাইলি আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শত্রুশিবিরের বিস্তীর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা এখন তাদের এই অভিযানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ইরানের সমস্ত যুদ্ধ ও অপারেশনাল ইউনিটকে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে। যদি প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে বিভিন্ন ফ্রন্ট থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আরও বড় আকারের ও বিধ্বংসী পালটা হামলা চালাতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সংঘাতের সূত্রপাত
এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় মূলত রোববার (৭ জুন), যখন পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্যাপক ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রোববার রাতেই উত্তর ইসরাইল অভিমুখে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোড়ে তেহরান।
সে সময় এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছিল যে, তারা ইসরাইল কর্তৃক যুদ্ধবিরতির এই লঙ্ঘন আর কোনোভাবেই বরদাশত করবে না এবং এর অংশ হিসেবেই তারা মিসাইল ছুড়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৮ জুন) ভোরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পালটা বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যার ফলে ইরানের বেশ কিছু প্রধান শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। তবে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষেই সুনির্দিষ্ট করে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: মেহের নিউজ