
ব্রেক্সিট-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ধারাবাহিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তার এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে গত এক দশকে দেশটিতে ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। ফলে মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে যুক্তরাজ্য কার্যত নতুন এক দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।
ব্রেক্সিট গণভোটের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার শুরু
২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকেই যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত দেশটির প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় গভীর বিভাজন তৈরি করে, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতি, নীতিনির্ধারণ এবং দলীয় রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে।
ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগে নেতৃত্ব সংকটের সূচনা
এই সংকটের সূচনা হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষে ফল আসার পর তিনি রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে পদ ছাড়েন। তার বিদায়ের পর যুক্তরাজ্যে শুরু হয় ধারাবাহিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের অনিশ্চিত অধ্যায়।
থেরেসা মের ব্রেক্সিট জটিলতা ও ব্যর্থতা
এরপর দায়িত্ব নেন থেরেসা মে। তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের চেষ্টা করলেও পার্লামেন্টে তীব্র অচলাবস্থার মুখে পড়েন। একাধিক চুক্তি ব্যর্থ হওয়া, দলীয় বিভাজন এবং রাজনৈতিক সমঝোতার অচলাবস্থা তাকে দুর্বল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
বরিস জনসনের উত্থান ও বিতর্কিত বিদায়
এরপর ক্ষমতায় আসেন বরিস জনসন। তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন সম্পন্ন করে শুরুতে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে একাধিক রাজনৈতিক বিতর্ক, প্রশাসনিক চাপ এবং মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহের মুখে পড়েন। ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই ২০২২ সালে তাকে পদত্যাগ করতে হয়।
লিজ ট্রাসের স্বল্পমেয়াদি সরকার ও অর্থনৈতিক ধাক্কা
এরপর দায়িত্ব নেন লিজ ট্রাস। তার ঘোষিত অর্থনৈতিক নীতির কারণে বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পাউন্ডের পতন এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে মাত্র ৪৪ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
ঋষি সুনাকের স্থিতিশীলতার চেষ্টা ও ব্যর্থতা
পরবর্তীতে দায়িত্ব পান ঋষি সুনাক। তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এবং জনসমর্থনের ঘাটতি তাকে চাপে ফেলে। শেষ পর্যন্ত আগাম নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে তার সরকারের মেয়াদ শেষ হয়।
কিয়ার স্টারমারের পতন ও নতুন নেতৃত্ব সংকট
২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসেন কিয়ার স্টারমার। তবে কর বৃদ্ধি, সামাজিক ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা, দলীয় বিভাজন এবং স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে তার সরকার দ্রুত রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত তিনিও পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সম্ভাব্য উত্থান
তার পদত্যাগের পর লেবার পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামী মাসে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।