
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে একটি রূপরেখা চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা যৌথভাবে এ চুক্তির ঘোষণা দেন।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তি প্রসঙ্গে নাদা হামাদাহ বলেন, এই রূপরেখা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্থায়ীভাবে বৈরিতার অবসান, বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবর্তন এবং দেশের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, এ উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, “প্রকৃত শান্তি তখনই সম্ভব, যখন উভয় দেশ নিরাপদে সহাবস্থান করবে এবং একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর কয়েক দিনের মাথায় ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এরপরই ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে এবং দেশটির কয়েকটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংঘাতে অন্তত ৩৭ জন ইসরায়েলি সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যায়। অতীতেও একাধিকবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর কোনোটিই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয়নি।