
মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর জলপথ হরমুজ প্রণালির কর্তৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী একটি যুদ্ধ ড্রোন গুলি করে মাটিতে নামানোর দাবি করেছে ইরান।
দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানের এলিট ফোর্স ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ (আইআরজিসি) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) মডেলের ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, সোমবার (১৩ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-এর প্রতিবেদনে ড্রোনটি ধ্বংস করার এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন নিখুঁত প্রযুক্তির সাহায্যে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই হাই-ভোল্টেজ ঘটনার ঠিক আগেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা দেশের দুটি ভিন্ন অঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের খবর দিয়েছিল। তাদের তথ্যমতে, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় শহর কোনারাক এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে এই বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো ঘটে।
ট্রাম্পের ‘ভাড়া’ চাওয়ার হুঁশিয়ারি ও ইরানের জবাব
ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে মার্কিন ড্রোনটির ওপর এই নিখুঁত হামলা এমন এক সংবেদনশীল সময়ে চালানো হলো, যার ঠিক আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিয়ন্ত্রণ হয়তো খুব শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের হাতে তুলে নেবে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প বিশ্বমঞ্চে এক অদ্ভুত দাবি উত্থাপন করে জানান, এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে কাতারসহ অন্যান্য জ্বালানি আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ বা মাশুল আদায় করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এমন আগ্রাসী ও বাণিজ্যিক মনোভাবের কড়া জবাব দিয়ে স্পষ্ট বার্তা পাঠিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ওয়াশিংটনের কোনো হুঁশিয়ারি বা খবরদারি তোয়াক্কা না করে তারা সাফ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও আইনকানুন রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের আধিপত্য বা অনধিকার হস্তক্ষেপ তারা ‘মানে না এবং ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না।’