
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় ওয়াশিংটন বনাম তেহরানের উত্তেজনা এবার চরম সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ওমানের ঘানিম অঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির একটি পাথুরে দ্বীপে স্থাপিত মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি রাডার একযোগে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলমান সামরিক সংঘাতের ১৩তম ধাপের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযানটি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে তাদের সামরিক অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়:
"প্রতিশোধমূলক এই সামরিক অভিযান দৃঢ়তার সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।"
এছাড়াও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির পুরো জলসীমা এখনও আইআরজিসির নৌবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সিরিয়ায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটিতেও বড় আঘাত
রাডার স্টেশনগুলো ধ্বংস করার পাশাপাশি সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বিশেষ অভিযান বাহিনীর (স্পেশাল অপারেশনস) প্রধান কমান্ড সেন্টারেও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাত দিয়ে এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরে ‘ইরানশহর’ নামক এলাকায় তাদের সেনাসদস্যদের মার্কিন ড্রোন বা হামলায় হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে, মূলত তার চরম প্রতিশোধ নিতেই সিরিয়ার ওই মার্কিন ঘাঁটিতে এই আঘাত হানা হয়েছে।
পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক ও পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে। মার্কিন বাহিনী যদি তাদের আগ্রাসন এবং নতুন করে হামলা চালানো বন্ধ না করে, তবে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের খনিজ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।