
মরক্কো সীমান্তঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইউরোপে নতুন করে অভিবাসন বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্পেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসামুক্ত ‘শেনজেন জোন’ থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দেওয়া এক বক্তব্যে মেলোনি এ আহ্বান জানান। একই সময়ে স্প্যানিশ সরকারের একটি প্রতিনিধিদল বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে একই দিনে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও স্পেনকে শেনজেন এলাকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেলোনি বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এক জায়গায় করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। এসব বৈঠক শেষ হওয়ার পর আমরা ব্যতিক্রমী ব্যবস্থার মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছি... যার মধ্যে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিত করার মতো বিষয়ও রয়েছে।’
সিউতায় অভিবাসীদের প্রবেশের দৃশ্যকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে পৌঁছাতে শিশুদেরসহ অনেক অভিবাসীকে সাঁতরে যেতে হয়েছে।
মেলোনি আরও বলেন, ‘ইতালি অলসভাবে বসে থাকবে না।’
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘আমি স্পেনের জন্য শেনজেন এলাকা বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে।’
তিনি দাবি করেন, ‘অনিয়মিত এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।’
তাজানির ভাষ্য, ‘সিউতা থেকে যে দৃশ্যগুলো আসছে তাতেই বোঝা যায়, ৫ লাখেরও বেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে স্পেনের, তথা ইউরোপের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে মাদ্রিদ সরকারের সিদ্ধান্ত কতটা ভুল ছিল। এর ফলে মূলত মানব পাচারই উৎসাহিত হচ্ছে।’
তবে ইতালির এসব মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে লুইস আলবারেস। তিনি অভিযোগ করেন, অভিবাসন ইস্যুকে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আলবারেস বলেন, ‘একটি অংশীদার ও বন্ধুপ্রতিম দেশের জন্য এ ধরনের মন্তব্য অনুচিত। তাদের কাছে আমরা ইউরোপীয় সংহতি আশা করি, কোনো দলীয় বাগাড়ম্বর নয়।’
উল্লেখ্য, শেনজেন জোন হলো ২৯টি ইউরোপীয় দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা, যেখানে সদস্য দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়মিত পাসপোর্ট বা সীমান্ত তল্লাশির ব্যবস্থা নেই।
এদিকে, ইতালির কট্টর ডানপন্থি উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি শুধু স্পেন নয়, পুরো শেনজেন জোন ব্যবস্থাই সাময়িকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।