
অবশেষে ছয় বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে সিকিমের ঐতিহাসিক নাথু লা পাস দিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে। শনিবার থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথটি সচল করার মাধ্যমে বিগত কয়েক বছরের কূটনৈতিক টানাপোড়েন ভুলে দুই দেশ আবারও অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম উইয়ন নিউজের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর টানা ৪৪ বছর বন্ধ থাকার পর ঐতিহাসিক সিল্ক রুটের অংশ এই পথটি ২০০৬ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। সে সময় এটিকে দুই দেশের আস্থা বৃদ্ধি এবং ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারির বিশ্বব্যাপী প্রকোপ শুরু হলে সুরক্ষার স্বার্থে এই সীমান্ত বাণিজ্য আবারও স্থগিত করা হয়।
দুই পক্ষের পারস্পরিক চুক্তি ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণে মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলতি মৌসুমের এই বাণিজ্য কার্যক্রম বহাল থাকবে। সপ্তাহের প্রতি সোম থেকে বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ বাণিজ্যে দুই দেশই পূর্বানুমোদিত ৩৬টি পণ্যের তালিকা অপরিবর্তিত রেখেছে।
ভারতের রফতানি তালিকায় প্রাধান্য পাচ্ছে হস্তশিল্প, হস্ততাঁত পণ্য, নানা জাতের মসলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী, কৃষি যন্ত্রপাতি, পোশাক, থালাবাসন ও ধর্মীয় ব্যবহারের দ্রব্যাদি। অপরদিকে, তিব্বতের দিক থেকে আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে থাকছে উল বা পশমের পোশাক, জুতা, ইয়াকজাত তৈরি পণ্য, মাখন, বোরাক্স, ছাগল ও কম্বল।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা এবং পাহাড়ের প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সচল করতে চালুর আগেই নাথু লা সমন্বিত চেকপোস্টে ব্যাপক মেরামত ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সামগ্রিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে অতিরিক্ত ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন করতে এবারই প্রথম নাথু লায় আইটিবিপির একটি বিশেষ নারী প্লাটুন দায়িত্ব পালন করছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে এই বাণিজ্যপথে সর্বোচ্চ ৪০০ জন ব্যবসায়ী কাজ করার সুবিধা পাবেন। তবে প্রাথমিকভাবে কিছু সীমিত সংখ্যক পাস দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রমান্বয়ে আরও ব্যবসায়ীদের অনুমোদনের আওতায় আনা হবে।
কূটনৈতিক মহল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় পর নাথু লা পাস খুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের চিত্র রাতারাতি বদলে না দিলেও, সীমান্তে স্বাভাবিকতা ফেরানো এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।