
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আসাম ও কেরালা। চলতি বর্ষা মৌসুমে আসামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, কেরালায় বৃষ্টিসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।
সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন জানিয়েছেন, এখনো সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে রাজ্যজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) রাজ্যের ১০টি জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা কমলা সংকেতে উন্নীত করেছে।
রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ সোমবার সকাল পর্যন্ত কোচিতেও অব্যাহত ছিল। পরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৩১৬টি ত্রাণশিবির চালু রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১ হাজার ১৮ জন অবস্থান করছেন।
অবিরাম বৃষ্টির কারণে কেরালার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত করেছে সরকার। সোমবার আইএমডি কেরালার জন্য জারি করা বৃষ্টির সতর্কতা হলুদ থেকে কমলায় উন্নীত করে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দেয়। তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, ত্রিশূর ও পালাক্কাড ছাড়া রাজ্যের বাকি সব জেলা কমলা সতর্কতার আওতায় রয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারও কয়েকটি এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
অন্যদিকে, দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামের বন্যা পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের পাঁচটি জেলায় বন্যার কারণে ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এর আগে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ছিল। তবে রোববার শিবসাগর জেলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এর ফলে চলতি বছরে বৃষ্টিপাত ও বন্যাজনিত কারণে আসামে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে।