
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মাদক পাচারবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিরা মাদক পাচারে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্সের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সাউদার্ন কমান্ড জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের পরিচিত রুটে চলাচলকারী একটি দ্রুতগতির নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ‘নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্যের’ ভিত্তিতে নৌযানটি মাদক পাচারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে ধারণা করা হয়েছিল। হামলায় নিহত পাঁচজনকে ‘মাদক সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এ দাবির সমর্থনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন নৌযানে চালানো হামলাকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এসব হামলায় এ পর্যন্ত ২৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে এসব অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা হামলাগুলোকে বেআইনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এ ছাড়া আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ট্রাম্প প্রশাসনের হামলার লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও আতঙ্ক ছড়ানো বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নৌযানটিতে থাকা ব্যক্তিদের মাদক পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়—এমন বিস্তারিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ।