
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে পাঁচটি পেশাজীবী সংগঠন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেছেন, দেশে গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিবেশ নেই।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন মোট ১,৬৭৫ জন পেশাজীবী। এর মধ্যে ১৩৬ জন সাংবাদিক, ১১১ জন চিকিৎসক, ২৬২ জন প্রকৌশলী, ৪০১ জন কৃষিবিদ এবং ৭৬৫ জন আইনজীবী রয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে পারে না। বরং এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রহসনে পরিণত হবে। নির্বাচনের ফলে দেশ দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পেশাজীবী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তাদের মতে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিবৃতিতে বর্তমান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাত্র চার দিন বাকি। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পায়নি। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল ইতোমধ্যে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে। এর আগে শেখ হাসিনাও এই নির্বাচনকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে ভোট বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ছিলেন।