হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড ঘিরে গড়ে ওঠা এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘মন্ত্রিপাড়া’ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা এসব বাংলোয় বসবাস শুরু করেছিলেন। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে সরকার গঠন করে। দায়িত্ব হস্তান্তরের পরপরই সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা বাংলো ছাড়তে শুরু করেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সরকারি বাসা বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং খুব শিগগির সংশ্লিষ্টদের কাছে আনুষ্ঠানিক বরাদ্দপত্র পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পরিদপ্তর।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ গত সোমবার তিনজন সাবেক উপদেষ্টা বাংলো ছেড়েছেন। আরও দুজন অচিরেই বাসা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলোয় আগেই অবস্থান করছিলেন এবং সেখানেই থাকছেন। তিনি মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। পরে টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়।
কে কোন ঠিকানায়
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩৫ হেয়ার রোড, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২৪ বেইলি রোড, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-কে ৫ হেয়ার রোড, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে ২৫ বেইলি রোড এবং ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদকে ৭ মিন্টো রোড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে ২ মিন্টো রোড, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে ৫ মিন্টো রোড, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে ১ হেয়ার রোড এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে ৬ হেয়ার রোডের বাংলোবাড়ি দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে ১ মিন্টো রোড, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে ৪ মিন্টো রোড, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ৩৪ মিন্টো রোড এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামকে ৪১ মিন্টো রোড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে ২ হেয়ার রোডের বাংলোবাড়ি দেওয়া হয়েছে।
মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান বেইলি রোডে বাংলো পেয়েছেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গুলশানে সরকারি বাসা বরাদ্দ পেয়েছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ধানমন্ডিতে সরকারি বাসা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা
প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়েছে। সেখানে তিনটি দশতলা ভবনে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু সংস্কারকাজ এখনো বাকি থাকায় নতুন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের সরকারি বাসায় উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ঈদুল ফিতরের পর তারা নিজ নিজ বরাদ্দপ্রাপ্ত বাসভবনে উঠতে পারবেন।