
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশের নাগরিকদের উপর বিরাট ঋণের বোঝা চাপানোর তুলনায় লোডশেডিংয়ের অল্প কষ্টই বহনযোগ্য বলেই মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ‘ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ’ (এফইআরবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের পরিকল্পনার অভাব ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজকে কঠোর সমালোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতি ‘একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, “আগে লোডশেডিং থাকলেও তা জাতির ওপর কোনো আর্থিক বোঝা তৈরি করেনি। এখন আলো জ্বলছে ঠিকই, কিন্তু সেই আলোর নিচে ঋণের পাহাড় অনেক ভারী।”
বিদ্যুৎ খাতের অপচয় এবং অনিয়ম নিয়ে তিনি বলেন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস বর্তমানে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতি ১ শতাংশ অপচয় মানে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি। বর্তমান সরকার প্রাথমিকভাবে এটি ৫ শতাংশে এবং পরবর্তীতে ৩ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সিস্টেম লস কমাতে পারলে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা যেমন আইএমএফের চাপ মোকাবিলা সহজ হবে এবং জ্বালানি খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী সরাসরি পর্যাপ্ত অনুসন্ধানের অভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, “বিদেশি উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই আজ এই সংকটের মূলে।” সরকার এখন নিজস্ব রিগ ক্রয় ও দক্ষ জনবল তৈরি করে দেশীয় কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে। তবে এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আগামী গরমের মাসগুলোতে গ্যাসের চাপ আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। মন্ত্রী আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সংকট এবং বিল পরিশোধের জটিলতা দূর করতে দ্রুত প্রিপেইড মিটার স্থাপনের গুরুত্বেও জোর দেন।