
মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আজ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ভোরের আলো ফুটতেই নগর থেকে গ্রাম—সবখানে ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ, আর মসজিদ ও ঈদগাহগুলো ভরে ওঠে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে।
সকালে দেশের জাতীয় ঈদগাহসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের জামাত আদায় করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলেও নির্ধারিত সময়ে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর দরবারে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পরে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ঈদকে ঘিরে নগরজীবনে ছিল ভিন্ন রূপ। সকালে নামাজ শেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরে ঘরে শুরু হয় আনন্দ আয়োজন। শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক, বড়দের ব্যস্ততা আর আত্মীয়স্বজনের আগমন—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি পরিবার। নগরের বিনোদনকেন্দ্র, পার্ক ও দর্শনীয় স্থানগুলোতেও ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলেও ঈদের আমেজ ছিল সমান প্রাণবন্ত। গ্রামের খোলা মাঠে ঈদের জামাত শেষে চলে কুশল বিনিময়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টিমুখ করা এবং আত্মীয়তার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার আয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে।
এছাড়া সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিতরণ করা হয় ফিতরা ও যাকাত। অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে দরিদ্রদের মাঝে খাবার ও পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবহ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আনন্দঘন পরিবেশে এবারের ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে, যা জাতির মাঝে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করেছে।