
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অনন্য এবং এর তুলনা অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই সংবিধান প্রণয়নের সময় ১৯৭১ সালের ঘটনাকে ১৯৭৪ সালের ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু একাত্তরের ইতিহাস সর্বজনস্বীকৃত ও বিতর্কহীন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ২৫ মার্চ ‘কালরাত্রি’-তে পাক হানাদার বাহিনী রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা শুরু করার সময় চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি আরও বলেন, “দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।”
আওয়ামী লীগ সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার মিথ্যা দলিল ও বয়ান তৈরি করেছে। তারা নিজেদের স্বার্থে প্রকৃত ইতিহাসকে উপেক্ষা করেছে এবং সবকিছুকে এক ব্যক্তির কৃতিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কাউকে ক্রেডিট দিতে রাজি নয়। কিন্তু আমরা সবার অবদানের স্বীকৃতি দিতে চাই, কারো সম্মান কেড়ে নিতে চাই না।”
আলোচনা সভায় তিনি বিএনপির লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসও স্মরণ করান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় বিএনপির অবদান অস্বীকার্য। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। বিএনপি সবসময়ই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছে।
২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্র এখনও নতুন করে বিনির্মিত হয়নি। ২৪-এর অভ্যুত্থান আমাদের স্বৈরাচারমুক্ত করেছে, এখন আমাদের কাজ হলো একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক দেশ গঠন করা।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার সংসদীয় রাজনীতির চর্চা এবং সংলাপের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।