
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে অব্যাহত রয়েছে ভারী বর্ষণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের চার বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস এবং আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তিনি বলেন, অতিভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিকে দেশের ১৮ জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জেলাগুলো হলো—রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট। এসব জেলার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ১৪৯ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৩৮ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১১৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৮৩ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ৬৩ মিলিমিটার এবং খেপুপাড়ায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী চার দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় আরও ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১০০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ইতোমধ্যে কক্সবাজার ও বান্দরবানের বিভিন্ন নদ-নদীতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বন্যা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।