
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নৃশংসতার এক লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে। রাজধানীর একটি হাসপাতাল থেকে আন্দোলনকারীদের মরদেহ পার্শ্ববর্তী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ানক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান সংলগ্ন জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা জানান।
নদীতে লাশ ফেলার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা
তদন্তের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে বিপুল সংখ্যক মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য মিলেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্তের প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে নদীতে বিলীন হওয়া শহীদদের সঠিক পরিচয় উদ্ধারেও সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
রায়েরবাজার গণকবর ও শনাক্তের পরিসংখ্যান
প্রসিকিউশন টিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
রায়েরবাজারের এই গণকবরে সমাহিত করা হয়েছে মোট ১১৪টি মরদেহ।
এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশজুড়ে তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষা
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ। তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানের গণকবরগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ৮৩৪ জন শহীদের মরদেহ সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পরিচয় নিশ্চিতকরণের এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া আরও বেগবান করতে রায়েরবাজার ছাড়াও জুরাইন, মাতুয়াইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের গণকবরগুলো পরিদর্শন করা হবে। নিহতদের সঠিক পরিচয় জানতে ডিএনএ টেস্টসহ সব ধরনের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।