
মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের সঠিক মূল্যায়ন ও শহীদদের ত্যাগের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর যাদের ওপর তালিকা প্রণয়নের গুরুদায়িত্ব অর্পিত ছিল, তারা নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সরকারপ্রধান।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
সংসদে একাত্তরের শহীদ পরিবার ও গণহত্যার সঠিক তালিকা তৈরির সরকারি পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিশিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন:
‘দেশ স্বাধীনের পরে প্রকৃত শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়ন যাদের দায়িত্ব ছিল তারা সেটাকে রাজনীতিকরণ করেছে।’
তিনি আরও যোগ করেন:
‘স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে যখন দেশ স্বাধীন হলো এ সময় যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এ দায়িত্ব যাদের ছিল তারা সেটিকে সঠিকভাবে না করে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এ তালিকা করেনি।’
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন:
‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যাগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন:
‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহনযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’
বিএনপির ঐতিহ্য ও পবিত্র দায়িত্ব
দলীয়করণমুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির বিষয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন:
‘এ প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে একটু আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং শুধু তাই নয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন:
‘বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দ্বারা গঠিত এই দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সে কারণেই আমি বলেছিলাম, দেশ স্বাধীনের পরে তাদের দায়িত্ব ছিলো সঠিকভাবে শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা, তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে, তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি।’
তালিকায় পূর্বের নানা অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
‘পরবর্তিতে বিভিন্ন সময়ে এই লিস্ট তৈরিতে বিভিন্ন রকম সমস্যা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে যাতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে পারি।’
এর আগে, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য মোট ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে ৩টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও সেই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।