
বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রথম বৈঠকে সদস্যদের পরিচিতি, কমিটির কার্যপদ্ধতি এবং পরবর্তী বৈঠকের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দ্বিতীয় বৈঠক থেকে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধনসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবির প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
গত ১৩ জুলাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শুরুতে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ খালি রাখা হয়েছিল। পরে বিরোধী দল সদস্যদের নাম না দেওয়ায় ১২ সদস্য নিয়েই কমিটির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সংসদে প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল, জোট ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সদস্যের নাম জমা দেয়নি।
বর্তমান ১২ সদস্যের কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। সদস্যরা হলেন—চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিব রহমান পার্থ, মোহাম্মদ নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।
এদিকে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরাও অধিবেশন বর্জন করেন।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, সংবিধানের আংশিক সংশোধনের পরিবর্তে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা উচিত। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এর আগে বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত সংস্কার সনদ অনুযায়ী জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। তার মতে, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সংসদে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়া হলে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একটি সংস্কার সনদে একমত হয়েছিল এবং সেই সনদের ভিত্তিতে গণভোট ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংবিধান সংশোধন কমিটির যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে মূল আলোচনা শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।