
গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ দেশের জনগণ কখনো স্বৈরাচারী শাসন মেনে নেয়নি কিংবা সমর্থন করেনি।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, গণতন্ত্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রকামী এবং তারা গণতন্ত্রের মহান আদর্শ রক্ষায় বারবার জীবন উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার আদায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করতে পিছপা হননি। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, এ দেশের সাধারণ মানুষ কখনোই কোনো স্বৈরাচারী শাসনকে মেনে নেয়নি বা সমর্থন করেনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন স্পিকার। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে জাতীয় সংসদ জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেন আইপিইউ মহাসচিব মিজ অ্যান্ডা ফিলিপ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা সম্ভব। একটি শক্তিশালী ও কার্যকারী সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধের সফল নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইপিইউ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।