
বাংলাদেশ থেকে কৃষি ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওমান বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজার কৃষিকর্মী ও পাঁচ হাজার মৎস্যকর্মীসহ মোট ১০ হাজার কর্মী নিতে আগ্রহী। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওমানের রাজপরিবারের সদস্য আল সাইয়্যিদ মোহাম্মদ সালিম আলি আল সাইদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, কর্মী নিয়োগের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আগামী মাসে ওমান সরকারের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সফরকালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়োগের অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওমানের ভিসা এখনও সীমিত রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজারে নিয়মিত প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধারে মাসকাটের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে নিয়মিতভাবে ওমান যেতে পারেন, তা নিশ্চিতে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ হিসেবে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ অভিবাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ওমানের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে অবদান রাখতে সক্ষম আরও দক্ষ কর্মী পাঠাতে ঢাকার পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে বিষয়টির অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজারের সুযোগ পুনরায় উন্মুক্ত হবে বলে আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তিনি জানান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে কর্মী পাঠানোর সঠিক সময় নির্ধারণ করা হবে।
ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইতালির ভেনিসে যা ঘটেছে, তা সত্যিই একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।
শামা ওবায়েদ জানান, ঘটনার পর মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বাঁধনের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পর শুরু হওয়া আইনি প্রক্রিয়ায় ইতালিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে। রাষ্ট্রদূতসহ দেশটিতে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাসও এ বিষয়ে পূর্ণ সহায়তা দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের কনস্যুলেট সেখানে শুরু হওয়া আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। রাষ্ট্রদূতসহ ইতালিতে আমাদের দূতাবাসও পূর্ণ সহায়তা করেছে।’
তিনি আরও জানান, বাঁধন যতদিন ইতালিতে থাকবেন, ততদিন বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন তাঁকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।’