
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়সূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। একই ব্রিফিংয়ে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য চুক্তি, জ্বালানি খাতের লোকসান ও ভর্তুকি, তেলের আন্তর্জাতিক বাজার এবং সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তথ্য উপদেষ্টা।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ, ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেবেন। একই দিনে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ২৫ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত
প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সান ফ্রান্সিসকোতে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনা ছিল।
তবে সরকারি ব্যয় কমানোর বিষয়টি এবং দেশের বর্তমান সংকট বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত সফর সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা প্রসঙ্গে
বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বোয়িং কিনছে—এ বিষয়টি ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যতটুকু তথ্য প্রকাশ করেছে, আপাতত তার বাইরে নতুন কোনো তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।
আইএমএফের নির্দেশে জ্বালানি ভর্তুকি কমানো হয়নি
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো নির্দেশনা বা শর্তের কারণে নেওয়া হয়েছে কি না, ব্রিফিংয়ে এমন প্রশ্নও করা হয়।
এর জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আইএমএফের কোনো নির্দেশনার সম্পর্ক নেই।
জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে ডিজেলে অতীতে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ডিজেলেই একসময় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো। এই বিপুল লোকসান কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সরকার সে বিষয়ে কাজ করছে।
একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পর দেশের বাজারেও জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এখনো বেশ পরিবর্তনশীল। ভবিষ্যতে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে। এ কারণে এমন পরিস্থিতিতে সরকার কতটা ভর্তুকি দিতে পারবে, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
‘জনগণকে কষ্টে ফেলে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না সরকার’
জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে কষ্টের মধ্যে রেখে কিংবা সংকটে ফেলে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না।
তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হবে—এটি বাস্তবতা। তবে একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে।
সরকার সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট কমলে বিনিয়োগ বাড়ার আশা
দেশের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে বড় পরিসরে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।
তার মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হলে দেশে বিনিয়োগের পরিধি বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে বক্তব্য
বিগত সরকার ও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতার পার্থক্য তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার আমলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা সরকারের পদত্যাগ দাবি করতেন। কারণ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেটি নির্বাচিত সরকার ছিল না।
অন্যদিকে বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দু-একটি ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচিত সরকারকে টলানো সম্ভব নয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার হজযাত্রীদের বিমান ভাড়াও কমিয়েছে।