
হাট-বাজার থেকে আদায় হওয়া রাজস্বের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অর্থ সৌর প্যানেল স্থাপনে ব্যয় করতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বাসভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সেখানে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম দেখেছেন তিনি। বাংলাদেশেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগও প্রয়োজন।
সভায় সড়ক উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নে সব উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। তবে এসব সড়কের অনেকগুলো প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের রাস্তা প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। সারাদেশ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের প্রস্তাব এলে মূল বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। বরাদ্দ করা অর্থ থেকে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন।
কার্পেটিংয়ের পর সড়ক পুরোপুরি শক্ত হতে সাধারণত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ে সড়ক পাহারায় ঠিকাদারকে দিনে ও রাতে দুজন করে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রকৌশলীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত হবে। এর ফলে আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে।
জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে সংসদে একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ বিভিন্ন বিষয় এ কমিটির আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে মূল্যায়নভিত্তিক আলোচনা করা হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. শহীদুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন। এ ছাড়া অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।