
রাজধানী কিংবা বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেলে বসে শুধু পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই সমাজে নারীর সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ। তার মতে, নারীর প্রকৃত অগ্রগতি ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে সরাসরি কাজ করতে হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) জাতিসংঘের নির্বাচনী প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত জেন্ডার সমতা বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
নারী ভোটার বাড়াতে পৌঁছাতে হবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে
তাহমিদা আহমদ বলেন, নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হলে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রত্যন্ত গ্রাম ও দূরবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও যেতে হবে। শুধু শহরকেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগামী নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত মোট ভোটারের অনুপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। তবে শুধু আইন বা বিধিনিষেধ আরোপ করে এ লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারীদের বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ভোটার থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ—সবক্ষেত্রে সমঅধিকার
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ানোকে নারীর ক্ষমতায়নের একমাত্র সূচক হিসেবে দেখলে চলবে না। নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।
তার মতে, ভোটার ও নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানেও নারীদের সমান অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে বেশ কিছু বাস্তবধর্মী উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথমেই ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ ও নারীবান্ধব করতে হবে।
পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশে নারী ভোটার, নারী প্রার্থী ও অন্যান্য নারী অংশীজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা হয়রানির আশঙ্কা ছাড়াই তারা যাতে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।
কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।