
বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা কবে পাবেন, তা এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপাতত আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে একাধিকবার কথাবার্তা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন হাতে-কলমে হিসাব করতে হয়। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে কিছুটা বেশি সময় নিতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, নতুন পে স্কেল অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চালু হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ সময়সীমা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্তের ওপর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এমপিওভুক্ত জনবলও নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন অর্থ বিভাগের। বিভাগটি পৃথক গেজেট প্রকাশ করলে শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নতুন পে স্কেলের বকেয়া হিসাব করবেন যেভাবে
নতুন পে স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর গত ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের সম্ভাব্য বকেয়া পাওনা কত হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ হিসাব সহজ করতে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক ক্যালকুলেটর তৈরি করা হয়েছে। এতে কর্মচারীর গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা ও বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং তিন মাসের বকেয়ার হিসাব দেখা যায়।
তবে ক্যালকুলেটরে দেওয়া সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাই হিসাব ব্যবহারের আগে ক্যালকুলেটরের নিচে থাকা ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭ আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতার হারও সংশ্লিষ্ট বেতন বিবরণী বা পে স্লিপ অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।
এটি সরকারি বেতন নির্ধারণের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নয়; বরং ব্যক্তিগত হিসাবের সুবিধার্থে তৈরি একটি অনানুষ্ঠানিক উপকরণ। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারিত হবে আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে।
ক্যালকুলেটরে তথ্য দেওয়ার নিয়ম
১. ব্যক্তিগত তথ্য: প্রথমে নিজের নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য হিসাবের মুদ্রিত বিবরণীতে দেখা যাবে। তবে ঘরগুলো ফাঁকা রেখেও হিসাব করা সম্ভব।
২. গ্রেড নির্বাচন: ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩০ জুন যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে।
৩. ৩০ জুনের মূল বেতন: সংশ্লিষ্ট তারিখের পে স্লিপ দেখে মূল বেতনের অঙ্ক দিতে হবে। তালিকায় নিজের বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ বিকল্প ব্যবহার করে তা লিখতে হবে।
৪. ১ জুলাইয়ের মূল বেতন: জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি যুক্ত হওয়ার পর পুরোনো বেতন কাঠামো অনুযায়ী যে মূল বেতন পেয়েছেন, সেই অঙ্ক দিতে হবে।
৫. কর্মস্থল ও বাড়িভাড়া: বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণে কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এতে ক্যালকুলেটরে সংশ্লিষ্ট হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। তবে পে স্লিপে উল্লেখ করা হারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজন হলে তা সংশোধন করতে হবে।
৬. বকেয়ার মাস: প্রাথমিকভাবে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস নির্বাচন করা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা যাবে।
৭. বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি: ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির ঘরে থাকা টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে।
অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে হিসাব সংশোধন
পে স্লিপে উল্লেখ করা বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে ঐচ্ছিক ঘরে প্রকৃত অঙ্ক বসানো যাবে। একইভাবে আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতন জানা থাকলে সেটিও সরাসরি ইনপুট হিসেবে দেওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর সরবরাহ করা অঙ্কের ভিত্তিতে হিসাব করবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলেই নিচে হিসাবের বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপ এবং প্রথম পর্যায়ে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের নিয়ম অনুযায়ী, দশম থেকে বিংশ গ্রেডের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতন হিসেবে প্রদর্শিত হবে।
মাসভিত্তিক হিসাবের মধ্যে থাকবে প্রাপ্য ও ইতোমধ্যে পাওয়া মূল বেতনের পার্থক্য, ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়িভাড়া এবং পুরোনো বেতনের ভিত্তিতে পাওয়া বাড়িভাড়ার সমন্বয়। এ ছাড়া বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব দেখানো হবে।
তবে ক্যালকুলেটরে পাওয়া অঙ্ককে চূড়ান্ত বেতন বা বকেয়ার হিসাব হিসেবে ধরা যাবে না। নির্ভুল হিসাব নিশ্চিত করতে মূল গেজেট, সংশ্লিষ্ট পে স্লিপ এবং সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থায় থাকা তথ্য যাচাই করা জরুরি।