
ক্ষমতায় গেলে দলের কোনো নেতা-কর্মী প্রয়োজন ছাড়া কোনো বৈধ সুযোগ-সুবিধাও নেবেন না—এমন অঙ্গীকারের পাশাপাশি ন্যায়বিচারে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিচার হবে আইনের ভিত্তিতে; পদ-পদবি বা পরিচয়ের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখা হবে না।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক পলিসি সামিটে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে লুটপাটের মাধ্যমে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। “আমরা এই জায়গা থেকেই উন্নত বাংলাদেশের পথে এগোবো। দেশ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে,”—বলেন তিনি। তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘২৪’-এ তারাই দেশের পাল ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং আগামী নির্বাচনেও তারাই পরিবর্তনের দিশা দেখাবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তোমাদের কাজ শেষ হয়নি, এখনই শুরু। তোমরা একটি স্বৈরাচার দেশ থেকে তাড়িয়েছো, কিন্তু স্বৈরাচারী মানসিকতা এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। যতদিন না তা শেষ হচ্ছে, লড়াই চলবে। আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকবো—পাশে থাকবো, পিছে নয়।”
ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি, খুন, রাহাজানি, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও গুম—এসবের অবসান সম্ভব কেবল সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে। “বিচার যদি বিচারের জায়গায় না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যারই সমাধান হয় না,”—যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যারা জামায়াতের পাশে ছিলেন ও আছেন, তাদের অবদান কোনোভাবেই শোধ করা সম্ভব নয়। “তাদের প্রতি জামায়াতে ইসলামী আজীবন কৃতজ্ঞ,”—বলেন তিনি।
পলিসি সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, কসোভো, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেন ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।