
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে চলমান বিতর্কের সমাধান সংসদের ভেতরেই চান জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে সংসদে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১৫ মার্চ) সংসদের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সংসদ ভবনের গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী তারা নিয়ম মেনে নোটিশ দেবেন। তিনি বলেন, "আমরা আন্তরিকভাবেই চাই এই সমস্যার সমাধান সংসদের ভেতরেই হোক। কিন্তু কোনো কারণে যদি সংসদের ভেতরে স্বাভাবিক সমাধান না পাওয়া যায়, তবে বাধ্য হয়ে আমাদের রাজপথে আন্দোলনে যেতে হবে। যদিও আমরা তা চাই না।"
তিনি আরও বলেন, যেহেতু বিষয়টি ইতোমধ্যে উত্থাপন করা হয়েছে এবং স্পিকার নোটিশ দেওয়ার কথা বলেছেন, তাই সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ইস্যুটি কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার মতে, বিষয়টি কার্যউপদেষ্টা কমিটির আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার মতো নয়। তিনি বলেন, "আমরা এটাকে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বিষয় মনে করি না। এটি সরাসরি সংসদের বিষয়। আমরা চাই সংসদেই এর চূড়ান্ত সমাধান হোক।"
সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিধান নেই— এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, "সংবিধানে ২০২৬ সালে কোনো ভোটের কথা ছিল না, কিন্তু রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে তা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই— রাষ্ট্রপতির আদেশের একটি অংশ সংবিধানের বাইরে গেলেও আপনারা মানবেন, আর অন্য অংশ মানবেন না, এটা হয় না। মানলে পুরোটাই মানতে হবে, না হলে কোনোটিই নয়।"
তিনি আরও বলেন, জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ সংবিধান। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "জনগণের ইচ্ছাই হলো সর্বোচ্চ সংবিধান। গণভোটে ওনারাও (সরকারি দল) সম্মত ছিলেন, আমরাও ছিলাম। আমাদের দাবি ছিল গণভোট আগে হওয়ার, আর ওনাদের দাবি ছিল নির্বাচনের দিনই হোক। শেষ পর্যন্ত ওনাদের দাবিই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং গণভোটে সংস্কারের পক্ষের প্রস্তাব জয়ী হয়েছে। সুতরাং এখন পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।"
শেষ পর্যন্ত সরকার দাবি মেনে নেবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান দিয়ে আমাদের দাবি মেনে নেবে।"