
সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তার মতে, মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবসা ও সমাজকল্যাণের লক্ষ্যকে একসঙ্গে ধারণ করাই এই মডেলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবং একই সঙ্গে এর শক্তির জায়গা।
বুধবার ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত সামাজিক ব্যবসাবিষয়ক এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতি, সামাজিক উদ্যোক্তা কার্যক্রম, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. মঈন খান বলেন, ‘সামাজিক ব্যবসা’ শব্দবন্ধটিই অনেকের কাছে একটি বৈপরীত্য মনে হতে পারে। কারণ, সামাজিক কার্যক্রম সাধারণত জনকল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত, আর ব্যবসা ঐতিহ্যগতভাবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মুনাফার সঙ্গে যুক্ত।
তিনি বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক কাঠামোয় সম্পদ সঞ্চয়ের মূল লক্ষ্য থাকে ব্যক্তিগত লাভ বৃদ্ধি করা। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রত্যাশিত সুবিধা পায় না। সামাজিক ব্যবসা সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে মুনাফার পরিবর্তে মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।
তার ভাষায়, সামাজিক ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করা নয়; বরং অর্জিত উদ্বৃত্ত অর্থ পুনরায় সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজে বিনিয়োগ করা। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের মতো উদ্যোগকে তিনি এ ধারণার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
ড. মঈন খান বলেন, মুনাফাহীন ব্যবসা পরিচালনা সহজ নয়, তবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান।
সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তুলতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ থেকেই এই চিন্তার বিকাশ ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি মানসিকভাবে একজন শিক্ষক এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রশ্ন করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের তিনি কৌতূহলী ও অনুসন্ধিৎসু হওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকাও তুলে ধরেন। তার মতে, সামাজিক ব্যবসার উদ্যোক্তাসুলভ মানসিকতা এবং নাগরিক সাহস—দুটির মধ্যেই বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করার প্রবণতা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা ও সামাজিক ব্যবসার সমর্থকেরা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, বৈষম্য ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সামাজিক ব্যবসার সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।