
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষিত ‘এক দফা’ এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, শেখ হাসিনার পদত্যাগ হলেও ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার’ সম্পূর্ণ অবসান ঘটেনি।
সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইডিইবি) মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৩ আগস্ট ঘোষিত এক দফায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পতনের অঙ্গীকার ছিল। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। আন্দোলনের শরিকদের বিরোধিতার কারণেই এক দফা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এক দফা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে পুলিশের দলীয়করণ বন্ধ হতো, গ্রামে গ্রামে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকত না। একই সঙ্গে তিনি দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, “চুলায় গ্যাস নেই, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নেই। দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন একটাই হয়েছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। গত দুই বছর দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেছে পাঁচ মাস হচ্ছে। কিন্তু গত দুই বছর বিএনপির ভূমিকা কী ছিল, সংস্কারের বিপক্ষে তারা ভূমিকা রেখেছে।”
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বিএনপির লোকেরা স্বীকার করেছে, পাঁচ মাসেই কিছু পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ঘুষ–দুর্নীতি চলছে। আবার বলছে, তারেক রহমান ভালো, বাকিরা খারাপ। শেখ হাসিনার সময় আমরা এ ধরনের প্রচারণা দেখেছি। শেখ হাসিনা ভালো, তাঁকে ভুল বোঝানো হচ্ছে, তিনি তাহাজ্জুদ পড়ে, আঠারো ঘণ্টা কাজ করে। এখনো একইরকম প্রচারণা দেখতে পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের ঘোষণা করেছিলাম। আমরা এ দেশকে আবার কোনো স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য হতে দেবো না।’
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসে, সেই ডিসেম্বরে আসার জন্য যদি ব্যবস্থা তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী) করে দেয়, তাহলে সেটার জন্য আপনারা (জুলাই যোদ্ধা ও আহত) প্রস্তুত আছেন তো? আমরা সবাই সেটার জন্য প্রস্তুত আছি; এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে, কোনো কথা হবে না। পুরা বাংলাদেশের জনগণ...সেদিন থাকবে বাংলাদেশের রাজপথে, ঢাকার রাজপথে; সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবে। ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে ঘরে ফিরব না।’
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সম্ভাবনা নিয়েও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কথা বলা হচ্ছে- আপনারা এটা একবার করে দেখেন। আপনাদের যদি হিম্মত থাকে, তবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করে বাংলাদেশে রাজনীতি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দেখান। কার কতটুকু সাহস ও হিম্মত আছে, তা মাঠে নামলেই দেখা যাবে।’