
বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে আমেরিকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, অথচ নিজের সন্তানের চাইল্ড সাপোর্ট বা ভরণপোষণের টাকা বকেয়া রেখেছেন—এমন ফাঁকিবাজ বাবা-মায়েদের জন্য এক নজিরবিহীন আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা সরকার। সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, এমন প্রায় ১৩ হাজার উগ্র ফুটবল ভক্ত যেন খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ঢুকতে না পারেন, সেজন্য আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে বুয়েনস আইরেস।
আর্জেন্টিনা প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার ও কঠোর; যারা নিজের সন্তানদের মৌলিক ও আর্থিক অধিকার রক্ষা করতে পারেন না, বৈশ্বিক ফুটবল উৎসবের গ্যালারিতে বসে উল্লাস করার কোনো নৈতিক অধিকার তাদের নেই। এ বিষয়ে বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা সন্তানের ভরণপোষণের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ, তাদের কোনো অবস্থাতেই বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না।
এই অভিনব ও কঠোর পদক্ষেপের পেছনে কাজ করছে দেশটির ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামক একটি বিশেষ সরকারি নিরাপত্তা কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—সেইসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, যারা সন্তানদের আইনি পাওনা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানালেও খেলা দেখার পেছনে ঠিকই বিপুল অর্থ উড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। আর্জেন্টিনা সরকার মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে ইতিমধ্যেই এমন ব্যক্তিদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা হস্তান্তর করেছে, যাদের বিরুদ্ধে চাইল্ড সাপোর্ট বকেয়া রাখার দায়ে দেশটির আদালতে প্রমাণিত মামলা রয়েছে। বুয়েনস আইরেস চায়, মার্কিন প্রশাসন যেন এই তালিকার কাউকে গ্যালারিতে প্রবেশ করতে না দেয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর হওয়া এই ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির অধীনে এ যাবৎকাল পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখেরও বেশি দর্শকের ডাটাবেজ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ১ হাজার ১৬৬ জন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে মাঠ থেকেই সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তবে শুধু সন্তানের চাইল্ড সাপোর্ট ঋণখেলাপিরাই নন, এই কঠোর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন বিভিন্ন উগ্র ও সহিংস অপরাধের সাথে জড়িত সমর্থকেরাও। আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ এই তালিকার পরিধি স্পষ্ট করে জানান, সর্বমোট ১৫ হাজারের বেশি মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে। তিনি আরও যোগ করে বলেন,
"আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে কোনো ধরনের অপরাধ বা সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তি এই বৈশ্বিক আয়োজনে যেন কোনোভাবেই প্রবেশ করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।"
বিশ্বকাপের বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের বিপুল সংখ্যক সমর্থক যখন প্রিয় দলের খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই নিজ দেশের সরকারের এমন নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এখন অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।