
ফুটবল কখনো কখনো সৌন্দর্যের চেয়েও বেশি কিছু। তারই প্রমাণ কেপ ভার্দে। তারা যেন এবার বিশ্বকাপে রূপকথার গল্প লিখতে এসেছে। স্পেনকে যখন রুখে দিল, তখন অনেকেই বলেছিলেন এটাই ৪৮ জাতির বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন। কিন্তু আমি টং দোকানের আড্ডায় বলেছিলাম, কেপ ভার্দের ম্যাজিক এখনও বাকি আছে।
স্পেনের সঙ্গে খেলার দিন আমি খুব আগ্রহ নিয়েই বসেছিলাম ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের খেলা দেখার জন্য। অনেক ফুটবলবোদ্ধা স্পেনকে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখছেন। তাই আমার আগ্রহটাও একটু বেশিই ছিল। কিন্তু খেলা শুরুর পর থেকেই কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ এবং অসাধারণ, বিশ্বমানের গোলকিপিং দেখে আমি তাদের দলের প্রেমে পড়ে যাই।
আজ যখন সাবেক দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের জালে ফ্রি-কিক থেকে প্রথম গোলটি দিল, তখন তো চোখ রীতিমতো আকাশে উঠেছে! মনে হয়েছে, বহু পুরোনো দিনের কোনো প্রতিশোধ নিতে যেন মরিয়া কেপের খেলোয়াড়েরা। অথচ বাস্তবে এটাই তাদের প্রথম বিশ্বকাপ।
উরুগুয়ে যখন গোল শোধ করে আবার এগিয়ে গেল, তখন কেপ ভার্দের খেলার ধরনই বদলে গেল। তারা একের পর এক আক্রমণ করে উরুগুয়ের রক্ষণে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। এরপর যখন সমতায় ফেরে, তখন আমার মনে একটি বিশ্বাস আরও দৃঢ়ভাবে জায়গা করে নেয়। সেটি হলো, আধুনিক ফুটবলের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেলে কেপ ভার্দে আগামী দিনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করবে।
বিশ্বকাপ অভিষেকে প্রথম দুই ম্যাচে অপরাজিত থাকা দলের সংখ্যা হয়তো ইতিহাস ঘাঁটলে পাওয়া যাবে। তবে কেপ ভার্দের গোলকিপার ও রক্ষণভাগকে অন্য দলের সঙ্গে তুলনা করলে অনেক পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত দলের সঙ্গেও মিল পাওয়া যাবে। কোথাও কোথাও তারা এগিয়েও থাকতে পারে।
সামনে সৌদি আরবের বাধা অতিক্রম করতে পারলেই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে দলটি। পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র আয়তনের ফুটবল দেশ কেপ ভার্দের জন্য রইল শুভকামনা। নিঃসন্দেহে আগামী দিনে বড় বড় ফুটবল দলের বিশ্লেষণে তাদের নাম আরও গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হবে।
লেখক: আনোয়ার কবির
ক্রীড়া ভাষ্যকার ও বিশ্লেষক।