
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরাতে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল সংস্থার তৎপরতাকে ‘সংঘবদ্ধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। একই সঙ্গে এসব অভিযোগকে মনগড়া ও অসত্য দাবি করে সংস্থাটি বলেছে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সভাপতি এবং ফিফার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পুরোনো একটি ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শনিবার রাতে বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় ফিফা।
‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, উয়েফার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইনফান্তিনোর কথিত এক প্রেমিকা বা সহযোগীকে চাকরি থেকে সরানোর সময় বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
ফিফা অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র এটিকে ‘ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, কোনো তথ্য বা প্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীন জল্পনাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ও টিকিট বিক্রির স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির বিতর্কিত ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফইই) প্রস্তাব সামনে আসার পর থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো।
উয়েফা ইতোমধ্যে তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভনেসও আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিশ্বকাপ বয়কটের যে হুমকি উয়েফা দিয়েছিল, সেটিও এখনও বহাল রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
তবে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান কঠোর হলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের প্রভাবশালী ফুটবল সংস্থাগুলো তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) ৫৪টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থা (কনমেবল) এবং মেক্সিকান ফুটবল ফেডারেশনও জানিয়েছে, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের পূর্ণাঙ্গ ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরানোর যেকোনো উদ্যোগ তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবে।
বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করে ফিফা বিবৃতিতে বলেছে, “ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাদের দেওয়া জনমতেই দায়িত্ব পালন করছেন। এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফিফা ও এর সভাপতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ভোটে যারা জিততে পারে না, তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তুলে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে।”
ফিফা আরও জানিয়েছে, গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা সবসময় স্বাগত জানায়। তবে অযৌক্তিক অভিযোগের মাধ্যমে ফিফার শাসনব্যবস্থা ও সভাপতির ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।